পরীক্ষায় অটো পাস মূল্যায়ন পদ্ধতি!

অটো পাস মানে কি? অনেকেই জানেন না। ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষার বাস্তবতায় অটো পাসকে পরীক্ষার বিকল্প পাসকে অটো পাস বলা হচ্ছে। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ না নিয়েই জে এস সি এবং এস এসসি ফলাফল গড় করে এইচ এসসি ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে যারা ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন, সবাই পাস করে গেছেন। এক কথায় শতভাগ পাস। কোন ফেল নেই। অটো পাস কথাটি শিক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত করেছে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি। সরকার শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই অটো পাসের ব্যবস্থা করেন। যাতে করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জট সৃষ্টি না হয়। কারণ মহামারী নভেল করোনা ভাইরাসের কারণে একসাথে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষাতে করোনা সংক্রমণ বাড়বে বলে ধারণা করা হয়।

 

এইচএসসি অটো পাস

২০২০ সালের এইচ এসসি পরীক্ষার জন্য রুটিন প্রকাশ করেছিল ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষা ১ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। এ কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়ম মেনে পরীক্ষার জন্য ফর্ম ফিলাপও করেছিলেন। কিন্তু প্রাণঘাতী মহামারী নভেল করোনা ভাইরাসের কারণে পরীক্ষা আর অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে সরকার সিদ্ধান্ত নেয় পরীক্ষার জন্য ফর্ম ফিলাপকৃত সকল শিক্ষার্থীকে পাস করিয়ে দেওয়ার। আর ফলাফল প্রদান করা হয় জেএসসি ও এসএসসি ফলাফলের গড় করে। এইচএসসি অটো পাস ২০২০ সালের ফলাফল ঘোষণা করা হয় ২০২১ সালের ৩০ জানুয়ারি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ফলাফল প্রকাশ করেন। এতে করে বিনা বাঁধায় প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থী পাস করে যান। এরমাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হয় অটো পাস নামের নতুন একটি টার্ম।

যদিও অটো পাস নিয়ে শিক্ষাবিদদের মধ্যে নানা মত রয়েছে। অনেকেই মনে করছে স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা চিন্তা করে অটো পাসের এ সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত। আবার অনেকে মত দিয়েছেন পরীক্ষার বিকল্প কখনো অটো পাস হতে পারে না। এতে শিক্ষার্থীদের যথাযথ মেধা যাচাই হয়নি। কারণ একজন শিক্ষার্থী জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল অর্জন করা মানেই তার এইচ এসসিতে খারাপ করা নয়। একইসাথে একজন শিক্ষার্থী জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষায় ভালো করা মানেই এইচ এসসি পরীক্ষায় ভালো করা নয়। এতে করে বুঝতে পারা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীরা সরাসরি পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি।

অটো পাস মূল্যায়ন পদ্ধতি

অটো পাস পদ্ধতি মূলত শিক্ষা মন্ত্রণালয় তথা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নিধারন করে দেয় হয়। যেমন এইচএসসি ২০২০ সালের অটো পাস মূল্যায়ন পদ্ধতি নির্ধারন করা হয়েছিল জেএসসি এবং এসএসসি ফলাফলের ভিত্তিতে। জেএসসি-জেডিসি সমমানের পরীক্ষার ফলাফলকে ২৫ শতাংশ ধরে এবং এসএসসি ফলাফলকে ৭৫ শতাংশ ধরে মোট ১০০ শতাংশের মধ্যে এইচএসসি ফলাফল মূল্যায়ন করা হয়।

আগেই বলা হয়েছে, অটো পাসের ফলাফল মূল্যায়ন নির্ভর করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। তাই অন্যান্য সকল বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ভিন্নতা আসতে পারে। এ পদ্ধতি ফলাফল মূল্যায়নের ফলে যারা জেএসসি-জেডিসি সমমানের পরীক্ষায় এবং এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করেছে এইচ এসসি ফলাফল তাদের অটোমেটিকভাবে ভালো হয়ে যায়। অর্থাৎ এইচএসসি অটো পাস ২০২০ সালের ফলাফল প্রস্তুত করা হয়েছে পূর্বের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে। এককথায় গড় ফলাফল।

২০২০ সালের এইচএসসি অটো পাস ফলাফল

২০২০ সালের এইচএসসি অটো পাস ফলাফল প্রকাশ করা হয় ২০২১ সালের ৩০ জানুয়ারি। এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৭৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। আর এতে সব শিক্ষার্থীই পাস করে গেছেন। আর এ পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জন পরীক্ষার্থী। জিপিও ৫ এর শতকরা হার ১১. ৮৩ শতাংশ । এখান থেকে ১০ হাজার ৫০১ শিক্ষার্থী পাবে এইচএসসি ২০২০ শিক্ষাবৃত্তি। বিভিন্ন বোর্ড অনুযায়ী এ বৃত্তিকে ভাগ করা হয়েছে। নির্ধারিত মেধা বৃত্তির কোটা অনুযায়ী নিয়মিত উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী অনুপাতে বোর্ড ভিত্তিক প্রাপ্য মেধা বৃত্তির সংখ্যা ১ হাজার ১২৫ জন এবং সাধারণ বৃত্তির সংখ্যা ৯ হাজার ৩৭৬ জন।

এসএসসি পরীক্ষা ২০২১ অটো পাস হবে?

এবার করোনা মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলা করছে বাংলাদেশ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো জুন মাসে। কিন্তু এ পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খোলায় এ পরীক্ষা অনেকটাই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। কারণ শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে না পারলে পরীক্ষায় বসবেন কীভাবে? এ নিয়ে চিন্তিত শুধু মাত্র শিক্ষার্থীরা নয়; অভিভাবক তথা খোদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে তবে কি এসএসসি পরীক্ষাতেও অটো পাসের সিদ্ধান্ত নিবেন সরকার নাকি সিলেবাস সংক্ষেপ করে অন্য কোন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করবেন। এসএসসি পরীক্ষা ২০২১ অটো পাস হবে? তা করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসলে নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। নভেল মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রকোপে বিধ্বস্ত পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষা ব্যবস্থার এ অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে বহুদিন। তাই আমাদের অপেক্ষা করতে হবে সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অটো পাস

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অটো পাস হবে কিনা এ নিয়ে অনেকেই জানতে চেয়েছেন। আসলে এ ব্যাপারে এখনো কোন সিদ্ধান্ত জানায়নি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রচুর। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অটো পাস দেওয়ার মত কোণ নমনীয়তা এখনো দেখায়নি। আশা করা যাচ্ছে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করে পরীক্ষা নেওয়া হবে। তাই যারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আছেন, তারা অটো পাসের আশায় পড়াশোনার ক্ষতি না করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিন। কেননা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেশনজট নিরসন করতে দ্রুত পরীক্ষা নিবেন এমনটাই ধারনা করা হচ্ছে। তবে যেহেতু পর্যাপ্ত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয়নি করোনা ভাইরাসের কারণে তাই সিলেবাস কিছুটা কমিয়ে এ পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে। তবে পরীক্ষা যে হবে এটা মোটামুটি নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *