ক্যারিয়ারের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির শুরুতেই

বিশ্ববিদ্যালয় একটি অবাধ শিক্ষার স্থান। সেখার বা জানার কোন শেষ নেই কথাটির যৌক্তিকতা খুঁজে পাওয়া যায় বিশ্ববিদ্যালয়েই। ধরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে আপনি একটি নির্দিষ্ট সাবজেক্টে ভর্তি হবেন বলে স্বপ্ন দেখেন। আপনার ক্যারিয়ার প্লানের সাথে সঙ্গতি রেখেই আপনি এই সাবজেক্ট চয়েজ করেন। কিন্তু এ স্বপ্নে সুপ্ত বীজ অনেকেরই অংকুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়। অর্থাৎ পছন্দমতো সাবজেক্টে ভর্তি হতে পারেন না। তার মানে এই নয় তার জীবন এখানেই শেষ। আসলে সত্যিকারের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের প্রকৃত মজাটা এখানেই।

কারণ অনেকেই পছন্দসই সাবজেক্ট না পেয়ে বেশ ভেঙ্গে পড়ে। অনেকে আবার নতুন এই সাবজেক্টকে নেয় চ্যালেঞ্জ হিসেবে। কীভাবে এই সাবজেক্টে ভালো করা যাবে। অনেকের কাছে আবার অনাকাংখিতভাবে পাওয়া সাবজেক্টটাই বেশি পছন্দের হয়ে ওঠে।

যেটা আগেই বলেছিলাম। জানার বা শেখার শেষ নেই। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে কেউ কেউ আবার নিজ সাবজেক্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নিজের জ্ঞানকে প্রসারিত করে। কেননা বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটা স্থান যেখানে অনেক জ্ঞানের সন্নিবেশ থাকে। এখানে মেন্টর হিসেবে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বড় ভাইদের পাওয়া যায়। তেমনি অনেক সময় নিজের সহপাঠীও হয়ে ওঠে ভালো মেন্টর।

তাই অনেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়টাকে নানাভাবে কাজে লাগায় নিজের দক্ষতা অর্জন করতে। নিজের সীমাবদ্ধতাকে ছাড়িয়ে যায় অনেকে। দেখুন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শেষ করেই অনেকেই চাকরির পেছনে হন্নে হয়ে ঘুরেন। অনেকেই আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা অবস্থাতেই নিজেকে তৈরি করে নেন।

ধরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস(বিসিএস) পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেয়। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই বা সহপাঠীরা হয়ে ওঠে বড় মেন্টর। একজন শিক্ষার্থীর হয়ত ইচ্ছে ছিলো বড় ব্যবসায়ী হওয়ার। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পর তার ক্যারিয়ার প্লান চেঞ্জ হয়ে সে বিসিএস প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। অনেকে আবার বিসিএস প্রস্তুতি নেবেন ভেবেও শেষমেষ হয়ে ওঠেন সফল উদ্যোক্তা। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়টা তার জন্য হয়ে ওঠে দক্ষতা অর্জনের অন্যতম নিয়ামক।
আর যারা কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান বা দক্ষতা অর্জন ছাড়াই শিক্ষাজীবন শেষ করেন। তখন তার অবস্থা হয়ে পড়ে চরম হতাশাজনক। তাই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতেই সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণন করতে হবে। আসলে আপনি কি হতে চেয়েছিলেন? কিন্তু আপনি আসলে কি হতে পারবেন। প্রত্যেক মানুষেরই কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। তাই নিজের সীমাবদ্ধতা অনুধাবন করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনার আসলে কি হওয়া উচিত। সে অনুযায়ী নিজেকে দক্ষ করে তোলা।

ধরুণ, আপনি বিসিএস ক্যাডার হতে চান। এবং আপনার মন আপনাকে সেদিকেই সায় দেয়। তাহলে নিজেই নিজের কাছে সংকল্প করে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিন। প্রয়োজনে আপনার দুর্বল বিষয়গুলোতে সহপাঠী বা বড় ভাইদের সহায়তা নিন। দেখবেন আপনি একটি নির্দিষ্ট সময় পর নিজেকে ঠিকই প্রস্তুত করতে পেরেছেন।

আর যদি উদ্যোক্তা হতে চান তবে সে পথেই হাঁটুন। নিজেকে জানুন। আসলেই কি আপনি উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রস্তুত। এজন্য যে মনোবল, শ্রম ও আত্মবিশ্বাস দরকার তা আপনার আছে কিনা। যদি থাকে তবে দেরি না করে ছাত্র জীবন থেকেই কোন বিষয়টা আপনার পছন্দ সেদিকে ঝাপিয়ে পড়ুন।

মনে রাখতে হবে, শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে ক্যারিয়ার প্লানিং করা সম্পূর্ণ বোকামী। কেননা পড়াশোনা শেষ করার পর নিজের উপরেই পারিবারিক বা মানুষিক অনেক চাপ থাকে। তাই এ সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সময় ভুল হয়ে যায়। ফলে হতাশা আরোও বেড়ে যায়। তাই ক্যারিয়ারের সিদ্ধান্তটা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতেই নেয়া ভাল। কেননা এই সময় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুত হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *