ছাত্রজীবনে আয় করবেন যেসব উপায়ে

ছাত্রজীবনে আয়! বিষয়টা সম্পর্কে অনেকেই কম বা বেশি জানি। কিন্তু আয়ের কিছু সহজ উপায় রয়েছে। যার মাধ্যমে আপনি যে শুধু আয় করবেন তা নয়। ছাত্রজীবনেও এসব এক্সট্রা ক্যারিকুলাম অ্যাক্টেভিটির আপনাকে দক্ষ করে তুলতে পারে। একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি ক্যারিয়ারও দাঁড় করাতে পারেন। ফলে জব মার্কেটে যখন তার সহপাঠীরা চাকরি খুঁজবেন।  তখন আপনি চাকরি দিবেন। তবে হ্যাঁ তা অবশ্যই নিজের পড়াশোনা ঠিক রেখে। একটা সময় ছাত্রজীবনে বাড়তি আয়ের প্রধান উপায় ছিলো টিউশনি। কিন্তু সময় এখন অনেক এগিয়ে গেছে।  টিউশনি ছাড়াও এখন অনেক বিকল্প কর্মসংস্থানের পথ শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। শুধু সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আপনি কোনটির সাথে যুক্ত হবেন। ছাত্রজীবনে আয়ের উপায় গুলো নিয়েই এখন আলোচনা করবো।

১) শিক্ষকতা

ছাত্রজীবনে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা আপনাকে খুব বেশি দক্ষ করে তুলবেন।  বর্তমানে প্রচুর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়েছে যেখানে পার্টটাইম শিক্ষকতার সুযোগ রয়েছে। আপনি যে বিষয়ে পড়াতে আগ্রহী সে বিষয় সিলেক্ট করুন এবং সে বিষয়ে পাঠদান শুরু করুন।  শিক্ষকতায় যে শুধু আপনার বাড়তি আয় বাড়বে তা নয়; এর মাধ্যমে আপনি নিজেকে জব মার্কেটের জন্য প্রস্তুত করতে পারবেন।  চাইলে শিক্ষকতার পাশাপাশি টিউশনিও করতে পারেন। এতে আপনার নিজস্ব দক্ষতা বাড়বে। যা আপনাকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথমদিকে অযথা সময় নষ্ট করেন। যা মোটেই উচিত নয়।

২) ফ্রিল্যান্সিং

দেশে পর্যাপ্ত চাকরির সুবিধা না থাকায় ফ্রিল্যান্সিং এ ঝুঁকছেন মেধাবী তরুণেরা।  ঘরে বসে অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করা যায়। এজন্য তাদের হাতে থাকা স্মার্টফোন এবং কম্পিউটারই যথেষ্ট। প্রথমে খুঁজে নিতে হবে আপনি কোন কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। তারপর আপনি সে বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। ধরুন, আপনি ছবি তুলতে পছন্দ করেন। তবে আপনি ফটোগ্রাফি করতে পারেন। অনেকে আবার আঁকতে পছন্দ করেন। তিনি গ্রাফিক্স ডিজাইন করতে পারেন।  অনেকে মার্কেটিং করতে পছন্দ করেন।  তারা অনলাইনে বিভিন্ন পণ্যের মার্কেটিং করতে পারেন। অর্থাৎ আপনার প্যাশনকে প্রাধান্য দিন। এতে আপনার কাজের প্রতি  আগ্রহ আরও বাড়বে।

৩) ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী

আপনি যেহেতু ছাত্র চাই আপনার পুঁজি কম হবে এটাই স্বাভাবিক।  কিন্তু আপনি চাইলে স্বল্প পুঁজি দিয়েও ক্ষুদ্র আকারে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।  এতে আপনার ঝুঁকি কম হবে। ধরুন, আপনি ভবিষ্যৎ এ গার্মেন্টস শিল্পের সাথে কাজ করতে চান।  তবে আপনি প্রাথমিকভাবে নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে গার্মেন্টস পণ্য সরবরাহ করতে পারবেন।  এতে আপনার ছাত্রজীবনে বাড়তি আয়ের পাশপাশি গার্মেন্টস ব্যবসায় ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পাবেন।  জানতে পারবেন ব্যবসার সুবিধা-অসুবিধাও।  এরকম অনেক ব্যবসা রয়েছে যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা বাড়তি আয়ের পাশাপাশি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।  আর এসব অভিজ্ঞতা দিয়ে নিজেকে এগিয়ে রাখুন

৪) পার্টটাইম জব

পার্টটাইম জব মানেই আপনার সুবিধামত সময়ে আপনি কোন প্রতিষ্ঠানে খন্ডকালীনভাবে যুক্ত হবেন।  বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, অনলাইন জব নিউজপেপার এবং ফেসবুক থেকেও পার্ট টাইম চাকরির সন্ধান পেতে পারেন। যেহেতু আপনাকে সম্পুর্ণ সময় চাকরি করতে হয় না। তাই পার্টটাইম জব করেও বাড়তি আয় করা সম্ভব। এতেও আপনার স্কিল ডেভেলপমেন্ট হবে। যেমন ধরুন,  মোবাইল ফোন সেলসম্যানের চাকরি, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানে চাকরি, ডে- কেয়ার সেন্টারে চাকরি। পার্ট টাইম জব আপনার যোগাযোগ দক্ষতা ও পেশাগত বাড়াবে। একইসাথে দায়িত্বশীল করে তুলবে।  তাই ছাত্রাবস্থায় পার্টটাইম জব মন্দ নয়।

৫) উদ্যোক্তা

বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি ভাবে উদ্যোক্তাদের নানা সুযোগ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। স্বাধীন পেশায় যুক্ত হতে চাইলে। এবং ছাত্রাবস্থায় ক্যারিয়ার ফিক্সড করতে চাইলে বিভিন্ন আইডিয়া কমপিটিশনে অংশ নেওয়া উচিত। অবশ্যই এমন আইডিয়া পছন্দ করতে হবে; যেনো আপনি পড়শোনা ঠিক রেখেও কাজ করতে পারেন।  হতে পারে এ উদ্যোগ ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক। বাড়তি আয়ের পাশাপাশি আপনি সফল উদ্যোক্তা হতে পারলে, পড়াশোনা শেষে আপনি নিজেই অন্যদের জব অফার করতে পারবেন। এতে আপনার অর্গানাইজিং এবং কমুনিকেশন স্কিল ডেভেলপমেন্ট হবে।

৬) লেখালিখি

আপনার যদি ভাষার উপর ভালো দক্ষতা থাকে। তবে লেখালেখি করেও আপনি ছাত্রাবস্থায় বাড়তি আয় করতে পারবেন। বর্তমানে যারা লেখালেখিতে দক্ষ তারা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে নিয়মিত লেখার সুযোগ পাচ্ছেন।  ধরুন আপনি ইংরেজি কনটেন্ট রাইটার তবে আপনি ঘরে বলে লেখালখি করেই বিপুল অর্থ আয় করতে পারবেন।  বিভিন্ন ওয়েবসাইট ছাড়াও দেশের এবং দেশের বাহিরের অনেক পত্রিকায় লেখা পাঠিয়েও আয় করা যায়। বর্তমানে তরুণদের মাঝে লেখালেখি খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।  শুধুমাত্র আপনার সৃষ্টিশীলতা, মেধা আর মননকে কাজে লাগিয়ে নিজেই বই প্রকাশ করতে পারেন।

৭) অনুবাদক

সারা বিশ্বেই অনুবাদকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিদেশি ভাষার উপরে দক্ষতা থাকলে আপনার চাহিদা রয়েছে।  কেননা ইন্টারনেটে অনেকেই দক্ষ অনুবাদক খোঁজেন।  ঘরে বসেই এসব কাজ করা যায়।  এছাড়া দেশেও অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা নিয়মিত অনুবাদকের কাজ করে থাকেন। এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়তি আয় করার সুযোগ পাবেন। তাছাড়া আপনার ভাষা দক্ষতাও বাড়ল।

৮) রাইড শেয়ারিং

রাইড শেয়ারিং এখন বর্তমানে খুবই জনপ্রিয় তরুণদের মাঝে। তরুণেরা মুঠোফোনে বিভিন্ন রাইড শেয়ারিং অ্যাপস ব্যবহার করে রাইড শেয়ার করছেন।  শুধু ঢাকা শহর নয়, ঢাকার বাহিরেও অনেক শহরে রাইড শেয়ারিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।  যেখানে তরুণেরা অবসর সময়ে রাইড শেয়ারিং করে আয় করতে পারেন।

৯) ইউটিউব থেকে আয়

আপনি যদি নিজেকে ভালো ইউটিউবার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। তবে আপনি এখান থেকেও পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়তি আয় করতে পারবেন।  আর ইউটিউবে যদি আপনার ভিডিও এর ভিউ বাড়াতে পারেন। তবে আপনি গুগল থেকে বিজ্ঞাপন পাবেন।  তাছাড়া ইউটিউবিং বা ভিডিও মেকিং এর সাথেও যুক্ত হতে পারেন। বর্তমান ভিডিও এডিটিং এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

আরও জানতে পারেন- বিতর্ক চর্চা করবেন কেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *