নেগেটিভ চিন্তা বন্ধ করতে ৭ টিপস

নেগেটিভ চিন্তা বন্ধ করতে আমরা মোটামুটি সবাই চাই।  মূলত, কোন কাজ করতে না পারার ভয় থেকেই জন্ম নেয় নেতিবাচক বা নেগেটিভ চিন্তা।  সত্যি বলতে কেউ ভয় পেতে পছন্দ করে না, কিন্তু খুব কম মানুষই ভয়ের সামনে দাঁড়াতে সাহস পান। অর্থাৎ ভয়কে জয় করার চেষ্টা করেন। ভয় আমাদের কোন কাজে অগ্রসর হতে বাঁধা দেয়।  বলা চলে আমাদের অচল করে দেয়। যেহেতু ভয়কে জয় করতে পারি না। তাই জীবন থেকে নেগেটিভ বিষয়গুলোকেও ওভারকাম করতে পারি না।  যতই আমরা নেগেটিভ চিন্তা থেকে বের হতে চাই না কেন। নেগেটিভ চিন্তা আমাদের ভয়কে আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে জীবনে সফলতা লাগের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।

ধরুণ, আপনি মঞ্চে বক্তৃতা দিবেন।  মানুষের সামনে কথা বলতে পারার ভয় আপনাকে বাঁধা দেবে। এভাবে আপনার স্বপ্ন পূরণ বা সফলতা অর্জনের পথেও অন্তরায় হবে।  দীর্ঘমেয়াদে,  এটি আপনার আশাবাদী চিন্তা এবং পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি নষ্ট করে দেয়। আর এভাবেই আপনার মনে জন্ম নিতে থাকে নেগেটিভ চিন্তা। যা আপনাকে আরও বেশি হতাশ করে তোলে। তাই আগে আমাদের ভয় এবং ভয়ের কারণ গুলোই প্রথমে খুঁজে বের করতে হবে।  একইভাবে মনকে নেগেটিভ চিন্তা করা থেকে বিরত রাখতে হবে। এ জন্য আরও একটি বিষয় করা যেতে পারে তা হলো যারা নেগেটিভ চিন্তা করে বা মানুষের মধ্যে হতাশা ছড়ায় তাদের সচেতনভাবে এড়িয়ে চলা।

কীভাবে নেগেটিভ চিন্তা বন্ধ করবেন?

অনেক সময় খুব সাধারণ বিষয় নিয়ে ভয় করি এবং আমাদের মধ্যে নেগেটিভ চিন্তা দেখা দেয়। ধরুণ, একজন মানুষ একটা কাজ খুব সুন্দরভাবে করতে পেরেছেন। আমরা তার কাজে মুগ্ধ হই। আর মনেমনে ভেবেই নেই কাজটি আমাকে দ্বারা কোনভাবেই সম্ভব নয়। আমরা ভেবেই নেই এইটা তার সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত ক্ষমতা। আমাকে দিয়ে এই কাজ করা হবে না। অর্থাৎ কাজ শুরুর আগেই ভয় আমাদের গ্রাস করে নেয়। ঝুঁকি নিয়ে কাজটি করার ইচ্ছাশক্তিকে দমিয়ে দেয়। নেগেটিভ চিন্তা বন্ধ করতে হলে তাকে চ্যালেঞ্জ করতে হবে। যা সহজ নয়।

এজন্য আপনার মনোবলকে আরও বেশি দৃঢ় করতে হবে। ধৈর্য ধারণ করতে হবে সেইসাথে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। যখন আপনি আপনার নেগেটিভ চিন্তাগুলো কাটিকে ওঠার সক্ষমতা লাভ করবেন, দেখবেন আপনি আশাবাদী হোয়ে উঠতে শুরু করেছেন। বিষয়টা হাস্যকর হলেও সত্য যে, যখন আমরা নেগেটিভ চিন্তাগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করবো; তখন নেগেটিভ চিন্তাগুলোই তাতে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। এজন্য আমাদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে। জীবনে স্কীল ডেভেলপমেন্টের জন্য দরকার সময় ও অনুশীলন। মনে রাখতে অসাধারণ কাজগুলো শক্তি নয়, অসীম ধৈর্য দিয়ে সম্পন্ন করতে হয়। EduIconBD -এর আজকের পোস্টে থাকছে নেগেটিভ চিন্তা বন্ধের ৭ উপায়

সব নেগেটিভ চিন্তাগুলো একবারে বাদ দেয়ার চেষ্টা করবেন না 

আপনি কখনোই পুরোপুরি নেগেটিভ চিন্তা করা বাদ দেয়ার চেষ্টা করবেন না। তাহলে আপনার বেশির ভাগ সময়ই এ চিন্তায় যাবে। এতে আপনার দৈনন্দিন কাজকর্মের উপর প্রভাব পড়বে। এজন্য আপনার নেতিবাচক চিন্তাগুলো সম্পূর্ণ নির্মূল করার চেষ্টা না করে, নেগেটিভ চিন্তাগুলোকে দক্ষ ভাবে মোকাবেলা করার চেষ্টা করতে হবে। অর্থাৎ আপনার যখন মনে কোন নেগেটিভ চিন্তার উদয় হবে তখন বিরক্ত না হয়ে তা দমন করতে হবে। সহজভাবে বললে, আপনার নেগেটিভ চিন্তা কখনোই আপনার নেগেটিভ চিন্তাকে ওভারকাম করতে সাহায্য করবে না।

আপনার চিন্তার ধরণ বুঝুন

আপনি যদি আপনার চিন্তার ধরণ বুঝতে পারেন; তবে নেগেটিভ চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করা বা ওভারকাম করা সম্ভব। তাই আপনি যাই চিন্তা করবেন তা বুঝতে কিছু সময় নিন। আপনি কি আশাবাদী হতে চান বা আপনি কি নেগেটিভ চিন্তা করেন ? আপনি নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করতে থাকুন। আপনি কতটা পজিটিভ চিন্তা করছেন। এবং আপনার চিন্তার ধণের কোন পরিবর্তন আসছে কি-না তা খেয়াল করুণ।

আপনি যদি এটা বুঝতে পারেন আপনি নেগেটিভ চিন্তাই করছেন, তবে কেন করছেন তা নিজেই খুঁজে বের করুণ। এটা কেন হচ্ছে ? এমন কোন ঘটনা, ব্যক্তি বা স্থান রয়েছে যার কারণে বারবার নেগেটিভ চিন্তা আসছে? এবার আপনি নেতিবাচক চিন্তার উৎস খুঁজে বের করার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার সময় বিষয়টি এড়িয়ে সতর্কভাবে পরিকল্পনা করুণ।

নেগেটিভ চিন্তাকে চ্যালেঞ্জ করুন

আপনি প্রথমে আপনার নেগেটিভ চিন্তাকে সনাক্ত করুণ। সেইসাথে নেগেটিভ চিন্তা গুলোকে চ্যালেঞ্জ করুণ। নিজেকে জিজ্ঞেস করুণ আপনি যা চিন্তা করছেন তা কতটা বাস্তববাদী। পরিস্থিতি বুঝুন, আপনার নেগেটিভ চিন্তা আর ভয়ের কারণেই কি তা আরও বেশি হচ্ছে?  অন্য কেউ যদি এমন চিন্তা করে আপনি কি তাকে সমর্থন করবেন? উদাহরণস্বরূপ, আপনার খুব কাছের বন্ধু যদি বলে পরবর্তী পদোন্নতি পাওয়ার নয় সে যথেষ্ট দক্ষ নয়। এই ধরণের চিন্তাকে কি আপনি সাপোর্ট দেবেন? অথবা, আপনি তাকে এটা স্মরণ করিয়ে দেবেন যে, পরবর্তী পদোন্নতি পাওয়ার জন্য সে উপযুক্ত। এভাবে নিজের বেলাতেও চিন্তা করুণ। কখনই নেভেটিভ চিন্তাকে বাড়তে দেবেন না।

আপনার জাজমেন্ট প্রকাশ করুন

মানুষ হিসেবে আমাদের কিছু বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আমরা পক্ষপাতিত্ব করি এবং আমাদের অভিজ্ঞতা দিয়েই অন্যদের বিচার করি। এসব স্টেরিওটাইপিং এবং ডিস্ক্রিমিনেশনের মত ঘটনার অন্যতম ভিত্তি। শুধু অন্যদের ক্ষেত্রে নয়; যখন আমরা আমরা সিদ্ধান্ত নিতে যাই তখনো অন্যদের দ্বারা এভাবেই প্রভাবিত হই। আর এভাবেই আমরা নিজেদের নিচে নামিয়ে রাখি। আমরা সর্বদা চিন্তা করি অন্যরা আমাদের থেকে কত সফল। তারা কীভাবে তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে সফল হয়েছিল এবং কেন তা আমরা কখনই করতে পারবো না। এ সময় সব নেগেটিভ চিন্তাগুলো ছুটে আসে এবং আমাদের টেনে নামায়। আপনার লাইফে এসব নেগেটিভ চিন্তাভাবনা কোঁথায় থেকে এসেছে তা জানুন। এবং তা থেকে উত্তরণের উপায়গুলোর সন্ধান করুণ।

সমালোচনাকে স্বাগত জানান

সমালোচনার পজিটিভ এবং নেগেটিভ দুই দিকই আছে। সমালোচনা পজিটিভ হতে পারে আবার নেগেটিভও হতে পারে। নেগেটিভ সমালোচনা আপনাকে আপনার সিদ্ধান্ত নিতে বাঁধা দেয়। কিন্তু নিজের মেধাশক্তি বা বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সমালোচনাকে মোকাবেলা করতে হয়। সমালোচনার পজিটিভ দিক হচ্ছে, সমালোচনার সমালোচক যদি ভালো হয় তবে সেখান থেকে আপনি শিক্ষা নিতে পারবেন। সেইসাথে নিজেকে শূদ্রে নিয়ে নতুন উদ্যোমে কাজ করতে পারবেন।

সেইসাথে সমালোচনা থেকে নিজেকে অনুপ্রাণিত করবে। কারণ সমাজে অনেক খারাপ মানুষ আছে যারা অন্যের ভালো দেখতে পারে না। তারাই অন্যের পেছনে লাগে। মনোবল নষ্ট করে দেওয়ার জন্য নানা চেষ্টায় লিপ্ত হয়। তখন বুঝতে হবে আপনি ভালো কিছু করতে যাচ্ছেন। তাই এ ধরণের সমালোচনা থেকে নিজেকে অনুপ্রাণিত করতে হবে। সংকল্প বদ্ধ হও এবং দৃঢ় চিত্তে এগিয়ে যাও এবং সমালোচনার কঠোর জবাব দাও সফলতার মাধ্যমে। সমালোচনায় গাঁ না ভাসিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা থেকে নিজেকে তৈরি করুন।

আরও পড়তে পারেন- সফল হওয়ার উপায় জেনে নিন

নিজের সামর্থের উপর ফোকাস করুন

আপনি পারেন এবং আপনি অবশ্যই পারবেন নিজের মনোবলকে এভাবেই দৃঢ় করুণ। যখনই কোন নেগেটিভ চিন্তা আপনার সামনে চলে আসবে, তা আপনি আপনার পজিটিভ চিন্তা দিয়ে নিবৃত করুণ। নিজের নেগেটিভ বিষয়ে মনোনিবেশ না করে পজিটিভ বিষয়গুলোর উপর মনোনিবেশ করুণ। দেখবেন, অনেক নেগেটিভ চিন্তার মধ্যে থেকেও আপনি অনেক পজিটিভ বা ইতিবাচক কাজ করে ফেলেছেন। এসব ভাবুন। দরকার হলে আপনার পজিটিভ বিষোয়গুলো খাতায় লিখে ফেলুন। যখনই নেগেটিভ চিন্তা সামনে চলে আসবে তা পড়ুন এবং তা থেকে শক্তি সঞ্চয় করুণ।

আমাদের নিজেদের ক্ষতি আমরা নিজেরাই করে থাকি। আমরা ইতিবাচক চিন্তায় মনোনিবেশ না করে ভুলত্রুটি বা নেতিবাচক বিষয়েই নিজেদের আবদ্ধ রাখি। তাই সবথেকে আপনার ফোকাস স্থানান্তর করতে হবে। নেগেটিভ বিষয় গুলোর থেকে পজিটিভ বিষয়েই বেশি ফোকাস রাখতে হবে। আপনার নেগেটিভ চিন্তাভাবনা যত কম্বে আপনার পজিটিভ চিন্তাভাবনা তত বাড়বে। যদি বিশ্বাস না হয় তবে অনুশীলনের জন্য নিজের ইতিবাচক দিক গুলো লিখে ফেলুন আর দেখুন। প্রমাণ নিজেই পেয়ে যাবেন।

দরকার হলে প্রফেশনাল সাপোর্ট নিন

যদি মনেকরেন আপনি কোনভাবেই আপনার নেগেটিভ চিন্তাভাবনা বাদ দিতে পারছেন না। নেগেটিভ চিন্তা গুলো আপনার দৈনন্দিন কাজে বাঁধা সৃষ্টি করছে; তখন আপনি প্রফেশনাল সাপোর্ট নিন। অর্থাৎ এমন প্রফেশনাল কারো কাছে যান যার কাছে আপনার নেগেটিভ চিন্তার উৎস গুলো খুলে বলতে পারেন। সেখান থেকেই আপনি পজিটিভ চিন্তা কীভাবে করতে শুরু করবেন এমন দিকনির্দেশনা পেয়ে যাবেন। তাই আপনি যদি মনে করেন আপনি এটা থেকে উপকৃত হবেন। তবে আপনার অবশ্যই তা করা উচিৎ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *