প্যাশন অর্থ বুঝে প্যাশন খুঁজুন

প্যাশন অর্থ বুঝে প্যাশন খুঁজুন । জীবনে সফলতা অর্জন করতে প্যাশন থাকা আব্যশক। কারণ আপনার প্যাশন আপনাকে সফলতা লাভে একধাপ এগিয়ে রাখে। তাই নিজের প্যাশনকে গুরুত্ব দিয়েই ক্যারিয়ার প্লান করা উচিত। কেননা সফল ব্যক্তিরা বলেন, তুমি তোমার প্যাশনকে অনুসরণ করো, সফলতা তোমাকে অনুসরণ করবে। কিন্তু আমরা প্যাশন শব্দের প্রকৃত অর্থই জানি না। আর যদি জানিও তবু নিজের প্যাশন কি তা জানি না। তাই সফলতা অর্জন করতে নিজের প্যাশনকে জানতে হবে। প্যাশন অর্থ বুঝে প্যাশন খুঁজুন। আর নিজেকে প্রশ্ন করুন আপনার প্যাশন কি?

প্যাশন অর্থ বুঝে প্যাশন খুঁজুন

হ্যাঁ, আপনি হয়ত বলবেন যে কাজ করতে আপনি সব থেকে বেশি কর্মস্পৃহা পান বা আপনাকে যে কাজ সব থেকে বেশি আনন্দ দেয় সেই কাজই আপনার প্যাশন। কিন্তু প্রশ্ন চলে আসে আপনার অনেক কাজ করতেই ভালোলাগে। তাইলে আপনার প্যাশন কোনটা? এডু আইকন বিডির এ নিবন্ধ থেকে আজকে জানতে পারবেন প্যাশন শব্দের প্রকৃত অর্থ। এবং কীভাবে বুঝবেন আপনার প্যাশন কোনটা? প্যাশন Passion শব্দের বর্ণগুলোর মধ্যেই তার প্রকৃত অর্থ লুকিয়ে আছে। ক্যারিয়ারে সফল হতে যে সব উপাদান জরুরি তা P.A.S.S.I.O.N শব্দের মধ্যে রয়েছে। বিশ্বাস হচ্ছে না? এবার তাহলে দেখা যাক। এটাকে Passion (প্যাশন) ফর্মুলা বলা হয়।

 মানুষ

পি ফর পিপল বা মানুষ। এই মানুষ বলতে আপনার চারপাশের মানুষকে বুঝায়। কারণ আপনি আপনার চারপাশের মানুষ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়। আপনি কেমন মানুষদের সাথে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তারা কি কর্মঠ ও সৃজনশীল। নাকি ব্যর্থ আর হতাশ। তাদের ব্যক্তিত্বই বা কোন স্বভাবের। সব কিছু আপনাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। তাই শুধু নিজেই প্যাশনেট হলে চলবে না, আশেপাশের মানুষদেরকেও আপনার সম্পর্কে ইতিবাচক হতে হবে।

কর্মকাণ্ড

এ ফর এক্টিভিটিস বা কর্মকাণ্ড।  কর্মকাণ্ড বলতে বুঝানো হয়েছে আপনার দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড। যা আপনি প্রত্যহ জীবনে করে থাকেন। আপনাকে খুঁজে নিতে হবে কোন কাজটি আপনার জন্য ভালো, আপনি কোন কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। আপনি কি আসলে সে কাজের মধ্যে অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন? আপনার স্কিল ডেভেলপমেন্ট বা নতুন কিছু জানতে কতটা আগ্রহী? চিন্তা করুন আপনি আপনার কাজ কর্মক্ষেত্র এবং বাসায় কতটা উপভোগ করছেন।

দক্ষতা এবং শক্তি

এস ফর স্কিল অ্যান্ড স্ট্রেনথ বা দক্ষতা এবং শক্তি। নিজেই অনুধাবন করুন আসলে আপনি কোনটাতে বেশি ভালো। এজন্য নিজেকে জানুন। নিজেকে শুনুন। আপনার কি নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা আছে? অথবা আপনি প্রকৃতিগত ভাবেই কোন সমস্যা সমাধানে বেশি দক্ষ। অর্থাৎ আপনার প্যাশনকে আপনাকেই ফাইন্ড আউট করতে হবে। একইসাথে বুঝতে হবে আপনার প্যাশনকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে আপনার দক্ষতা এবং শক্তি কেমন। ধরুন, আপনার প্যাশন প্রোগ্রামার হওয়া কিন্তু আপনি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজই জানেন না। তাহলে আপনার প্যাশন এটা হওয়া উচিত নয়। আপনার দ্বিতীয় প্যাশন যদি হয়ে ফটোগ্রাফি এবং আপনি ক্যামেরা পরিচালনা ভালো দক্ষতা রাখেন তবে দুইটার মধ্যে ফটোগ্রাফিকেই প্যাশন হিসেবে নিতে হবে। কারণ এটা সম্পর্কে আপনি জ্ঞান রাখেন।

নির্ধারণ

এস ফর সেটিংস বা নির্ধারণ। সেটিংস বা নির্ধারণ হচ্ছে আপনার কর্মক্ষেত্র ও কর্ম পরিবেশ নির্ধারণ করে নেয়া। আপনি ক্যারিয়ার হিসেবে কোন পেশাকে নিতে চান। সরকারি, বেসরকারি নাকি স্বাধীন চাকরি। একইসাথে আপনার নির্ধারণ করে নিতে হবে আপনি বাসায় না বাহিরে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কারণ কর্মক্ষেত্র আপনার দৈনন্দিন জীবনের উপর প্রভাব ফেলে। যেমন আপনি যদি কোন  কর্পোরেট অফিসে জব করেন। তবে আপনাকে নিয়মিত অফিস করতে হবে। কিন্তু আপনি যদি ফ্রিল্যাসিং এর মত স্বাধীন কোন পেশাকে বেছে নেন। তবে আপনি ঘরে বসেই কাজ করার সুযোগ পাবেন। অনেকেই বাহিরে কাজ করার থেকে বাড়িতে কাজ করতেই বেশি পছন্দ করেন। তাই নিজেকে সেট করে নেয়া জরুরি।

আগ্রহ

আই ফর ইন্টারেস্ট বা আগ্রহ। শুরুতেই বলেছিলাম, আপনি যা করতে বেশি কর্মস্পৃহা বা অনুপ্রেরণা পাণ তাই হচ্ছে আপনার প্যাশন। আর এজন্য আগ্রহ বা ইন্ট্রারেস্ট খুবই জরুরি। নিজেকে প্রশ্ন করুন, সারাদিনের কোন কাজটি আপনাকে বেশি আনন্দ দিয়েছে। কোন কাজটি করার নিজের মধ্যে একটু বাড়তি প্রশান্তি আসে। চাইলে আপনি এসব কাজের একটি তালিকা তৈরি করে নিতে পারেন। তাহলে আপনি আপনার প্রকৃত প্যাশনের ব্যাপারে জানতে পারবেন। প্যাশন অর্থ বুঝে প্যাশন খুঁজুন। বুঝতে হবে প্যাশনের ব্যাপারে আগ্রহ না থাকলে সেটা কখনই প্যাশন নয়।

আরও পড়তে পারেন-  ইমোশন কন্ট্রোল করুন ৬ উপায়ে

সুযোগ

এস ফর অপারচুনিটি বা সুযোগ। দার্শনিক এরিস্টটল বলেছেন, কাজের মধ্যে আত্মতৃপ্তি কাজের মধ্যে পরিপূর্ণতা আনে। তাই আপনি প্যাশন হিসেবে যেটাই বেছে নেন না কেন সেখানে আপনার আত্মতৃপ্তি থাকা খুবই জরুরি। কোন কাজে যোগ দেয়ার আগে চিন্ত করুন সেখানে আপনার স্কিল বা দক্ষতা কতটা কাজে লাগাতে পারবেন। সেইসাথে সে পেশায় আপনার কাজের সম্ভাবনা বা নিজেকে বিকশিত করার সুযোগ আছে কিনা তা যাচাই করে নিতে হবে। যদি আপনার কাজের সুযোগ থাকে তাহলে আপনি তা দিয়ে বিশ্ব জয় করতে পারবেন।

প্রয়োজনীয়তা

এন ফর নীডস বা প্রয়োজনীয়তা। প্রয়োজনীয়তা হচ্ছে প্যাশনের সর্বশেষ ধাপ। আপনার দক্ষতা এবং প্যাশনের সাথে আপনার চারপাশের চাহিদার কোন সম্পর্ক আছে কিনা তা যাচাই করুন। অর্থাৎ মার্কেট প্লেসে আপনার প্যাশনের চাহিদা কেমন তা খুঁজে নিন। অবশ্যই আপনার পেশার চাহিদা আপনাকে ক্যারিয়ার যে কোন পেশায় গঠনে সহায়ক হবে। যখন আপনার প্রয়োজনীয়তা থাকবে তখন কাজের প্রতি আপনার দায়বদ্ধতা বাড়বে। তাই আগে প্যাশন অর্থ বুঝুন, তারপর প্যাশন খুঁজুন।

এবার প্যাশনের ফর্মুলায় নিজেকে দেখুন। প্যাশন অর্থ বুঝে প্যাশন খুঁজুন। আপনার প্যাশনগুলো নিয়ে সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নিন। কোন কাজ আপনার ভালো লাগতেই পারে। তাই বলে সেটা আপনার প্যাশন হয়ে উঠতে পারে না। প্যাশন হলো তাই যা আপনাকে উদ্যমী করে তোলে। যে কাজে কর্মস্পৃহা থাকে। এবং সে কাজের উপর আপনার যথেষ্ট দক্ষতা এবং ইচ্ছাশক্তি থাকে। অনেকেই নিজের সঠিক প্যাশন না খুঁজেই সাময়িক ভালোলাগাতে থেকেই কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যা অনুচিত।

1 Comment

Add a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *