৭ উপায়ে পাত্তা পাবে না স্মার্টফোন আসক্তি

স্মার্টফোন আসক্তি নেই এমন মানুষ নেই বললেই চলে। আর এ আসক্তির যেমন কর্ম ক্ষেত্রে নানা সমস্যায় ভুগতে হয়। তেমনি পারিবারিক ও সামাজিক জীবনেও অশান্তি দেখা দেয়। বাদ যায় না মানুষিক অশান্তিও। কিন্তু স্মার্টফোন আসক্তির খারাপদিক জেনেও আমরা যেন স্মার্টফোনের কাছে যেন অসহায়। স্মার্টফোন আসক্তি এখন শুধু তরুণদের নয়। আসক্ত সব বয়সের মানুষ।

তাহলে কীভাবে স্মার্টফোন আসক্তি থেকে নিজেকে দূরে রাখা যায়। সুন্দর করে তোলা যায় নিজের ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক জীবন। স্মার্টফোন গবেষক এবং চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীরা এমন কিছু উপায় বা কৌশলের কথা জানিয়েছেন।  এ কৌশল অবলম্বন করলে আপনার কাছে পাত্তা পাবেনা স্মার্টফোন আসক্তি। বেঁচে যাবে আপনার প্রাত্যহিক জীবনের মহামূল্যবান সময়। তবে স্মার্টফোন আসক্তি থেকে মুক্তির এই চর্চা অবশ্যই নিয়মিত করতে হবে।

১) স্মার্টফোনকে না বলুন

প্রথমেই আপনার মনোবলকে দৃঢ় করতে হবে স্মার্টফোনকে না বলার দিকে। সংকল্প করতে হবে আমি এখন ফোন হাতে নিবো না। কারণ প্রয়োজন ছাড়া স্মার্টফোন হাতে নিলে আপনি মনের অজান্তেই আসক্ত হয়ে পড়বেন। হয়ত ভেবেছিলেন পাঁচ মিনিট ব্যবহার করবের কিন্তু যখন খেয়াল হলো তখন সময় পঞ্চাশ মিনিট পার। তাই যতটুকু সম্ভব স্মার্টফোনকে না বলার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

২) সময় বেঁধে স্মার্টফোন ব্যবহার

সময় বেঁধে স্মার্টফোন ব্যবহার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। আপনি নিয়মিত কাজের বাহিরে স্মার্টফোন ব্যবহার অবশ্যই করবেন। তবে তা সময় বেঁধে। ধরুন, আপনি নিজেই নিজের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। প্রতিদিন আপনি এই সময়টা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা গেম খেলতে ব্যয় করবেন। এই উপায়টি শিক্ষার্থীদের জন্য সব থেকে বেশি কার্যকরী। কেননা তারা পড়াশোনার সময় ফোনে আসক্ত হয়ে পরে। তাই তারা পরিবারের অন্য সদস্যদের সাহায্য নিয়ে স্মার্টফোন থেকে বিরত থাকতে একটি উপায় অবলম্বন করতে পারে। তা হলো একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত স্মার্টফোন জমা রাখা। পড়াশোনা শেষ করে স্মার্টফোন ব্যবহার করা।

৩) স্মার্টফোন থেকে দূরে থাকা

স্মার্টফোন থেকে দূরে থাকার অভ্যাস করতে পারেন। যখন আপনি খুব জরুরি কাজ করবেন। বা শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করবেন। তখন স্মার্টফোনটি একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে রাখুন। যেন ব্যবহারের ইচ্ছা করলেও হাতের নাগালে না পান। আর এভাবে আপনার জরুরি কাজ বা পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ নষ্ট হবে না। কেননা হাতের কাছে স্মার্টফোন থাকলে প্রায়ই আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাপস বা অন্যান্য অ্যাপসের নোটিফিকেশন চেক করতে থাকি। এতে কাজের প্রতি মনোযোগ ক্ষুণ্ণ হয়। তাই প্রয়োজনে স্মার্টফোন থেকে দূরে থাকুন। মোমেন্টের মত কিছু অ্যাপস আছে যার মাধ্যমে আপনি দিনে কতবার স্মার্টফোন হাতে নিয়েছেন তা মনে করিয়ে দিবে। সেইসাথে আপনাকে এ কাজে নিরুৎসাহিত করবে।

৪) পছন্দের অন্য কাজ করুন

স্মার্টফোন আসক্তি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে আপনার পছন্দের অন্য কাজ করুন। এজন্য আপনার জানতে হবে আপনি স্মার্টফোন ব্যবহার ছাড়াও অন্য কোন কাজ বেশি করতে পছন্দ বা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এ সময় আপনি বাগান পরিচর্চা করতে পারেন। পরিবারের শিশুদের সময় দিতে পারেন।  তাদের সাথে খেলাধুলা করতে পারেন। বই পড়তে পারেন। নিজের এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের যত্ন নিতে পারেন। গল্প করতে পারেন। অর্থাৎ যে কোনভাবে স্মার্টফোন থেকে নিজেকে আলাদা করুন।

৫) নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন

নোটিফিকেশন স্মার্টফোন আসক্তির অন্যতম কারণ। কেননা আমাদের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাপস থেকে প্রচুর নোটিফিকেশন আসতে থাকে। আর আপনি নোটিফিকেশন চেক করতেই ফোনের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছেন। তাই গবেষকদের মত, স্মার্টফোনের অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা। যেমন ফেসবুকের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখতে পারেন। কেননা আপনি ফেসবুকে কোন ছবি আপলোড দিয়ে বারবার চেক করতে থাকেন লাইক এবং কমেন্টস। অন্যদিকে, ইমেইলে জরুরি নোটিফিকেশন আসতে পারে। তাই বন্ধ রাখা যাবে না।

আরও দেখতে পারেনঃ ছাত্রজীবনে প্রেম : জেনে নিন প্রেমের লাভ-ক্ষতি

৬) অ্যাপস ব্যবহারকে না বলুন

অ্যাপস নির্মাতারা আপনাকে আসক্ত রাখতেই বিভিন্ন আকর্ষণীয় ফিচার যুক্ত করেন। তাই অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। নিজেই ভাবুন কোন অ্যাপসগুলোতে আপনার বেশি সময় খাচ্ছে। সেসব অ্যাপস প্রয়োজনীয় না হলে ফোন থেকে ডিলেট বা ডিজেবল করুন। বিশেষ করে ফেসবুকের মত অ্যাপস। যা আপনার মুঠোফোনে ব্যবহার করা সময়ের বেশি অংশই নিয়ে নেয়। সেইসাথে আপনি যদি গেমিং এ আসক্ত হন। তবে গেমিং অ্যাপস ডিলেট করে দিন। এক কথায় প্রয়োজন ছাড়া এমন কিছুই রাখবেন না; যা আপনার টাইম কিল করে।

৭)  স্ক্রিন-মুক্ত এলাকা রাখুন

স্মার্টফোন আসক্তি থেকে বাঁচতে বাড়িতে স্ক্রিন-মুক্ত এলাকা রাখুন। অর্থাৎ বাড়িতে এমন একটি কক্ষ রাখুন যেখানে কেউ স্মার্টফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। কারণ কথা বলা বা আড্ডা দেওয়ার সময় কাছে স্মার্টফোন থাকে মনোযোগ নষ্ট হয়। অন্যরা বিরক্ত হন। তাই পরিবারের সদ্যদের নিয়ে স্ক্রিন-মুক্ত কক্ষ বা এরিয়া রাখুন।

আরও পড়তে পারেন-  সফল হওয়ার উপায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *